ব্রাজিলে লুলার জয়ের নেপথ্যে যেসব কারণ

ভোটারদের ফিরিয়ে আনা, দেশপ্রেমের বার্তা ও জনজীবনের সমস্যা নিয়ে প্রতিশ্রুতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর দাবি

টুইট ডেস্ক: ব্রাজিলের রাজনীতিতে বড় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় তাঁর এই জয় নিয়ে আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সক্রিয় করা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন সামনে আনা এবং দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তাঁর জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম দফার নির্বাচনে ২১ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে যাননি। দ্বিতীয় দফার আগে লুলা ও তাঁর দল এই ভোটারদের কেন্দ্রে ফেরাতে প্রচারণা জোরদার করেন। এর ফলে ভোটদানের হার বাড়ে এবং প্রায় ৩০ লাখ অতিরিক্ত ভোটার ভোট দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে লুলা ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জন্য সপ্তাহান্তে বিনা মূল্যে গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতিও তাঁর প্রচারণার অন্যতম অংশ ছিল। পারিবারিক ঋণ মোকাবিলা, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়সীমা বাড়ানো এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন লুলা।

ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও তাঁর প্রচারণা ফল দিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যগত সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি মিনাস জেরাইসসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য এবং সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোর মতো বড় শহরে ভালো ফল তাঁর জয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে সহায়তা করেছে।

তবে নির্বাচনী জয় সত্ত্বেও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে লুলার। কংগ্রেসে ডানপন্থী দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ফলে নির্বাচনী সাফল্যকে কার্যকর শাসনে রূপ দেওয়াই হবে তাঁর পরবর্তী বড় পরীক্ষা।