থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা না দেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ঘটনাটিকে অভিযোগ নয় বলছে পুলিশ
টুইট ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। তবে এটি কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, উল্লেখযোগ্য ঘটনা নথিভুক্ত রাখার অংশ হিসেবে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়; উল্লেখযোগ্য ঘটনা নথিভুক্ত রাখতেই পুলিশ এমন পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ওসির কক্ষে যান রুমিন ফারহানা। দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি সেখানে যান। রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ওসির কথা-কাটাকাটি চলে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্যকে নিরাপত্তা দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও পুলিশ তা করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে তিনি থানায় যান।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুজনই পরস্পরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেন। ওসি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রুমিন ফারহানা বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রুমিন ফারহানা বলেন, যাঁর বিষয়ে কথা বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন।
ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, রুমিন ফারহানা অনেক লোক নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, পূজাকে কেন্দ্র করে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা গেলেও ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা কিংবা নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।






