প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আশা টোকিওর

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্ব, আলোচনায় জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান
টুইট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে টোকিও। সফরে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং শিল্প ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের শিল্প ও জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া জাপানি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং উৎপাদন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের বরাতে জানা গেছে, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ সফর। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশই উপকৃত হবে।
তবে সফরের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত, ঘোষিত উদ্যোগ এবং চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।






