বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল, ছয় মাসের সর্বোচ্চ

মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা ও হামলার ঘটনায় বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ৫৫ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩ ডলার ৮০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৩ ডলার ২৭ সেন্ট। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
তেলের দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার খবর বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর জানিয়েছে দেশটির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে কী কারণে এবং কোন জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এর আগে দেশটির আল জাজিরা এলাকার পশ্চিমে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানার পর একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ লুইজিয়ানার একটি শোধনাগারে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে। জার্মানিও কৌশলগত মজুত থেকে ডিজেল, হিটিং অয়েল ও অপরিশোধিত তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ছাড়া লিবিয়ার দুটি তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরে তেল পরিবহনের পাইপলাইনের একটি ভালভ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






