তিন বছর কারাবাসের পর মৃত্যুদণ্ড, মামলার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আটকের নথি আছে, অস্পষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া । মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি; আগের অভিযোগ ও চূড়ান্ত রায়ের সম্পর্ক জানতে চায় ঢাকা। 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড গত ১৪ অক্টোবর কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচার শেষে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে তাজির নীতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। উচ্চতর কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে সাজা কার্যকর করা হয়। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, ঘটনার তারিখ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

দ্য ডেইলি স্টারের ২০ অক্টোবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটের একটি ১৮ অক্টোবরের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধ আইনে এবং সিতি আখতারকে ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের যথাক্রমে জেদ্দা সংশোধনাগার ও নারী কারাগারে রাখা হয়। দুজনই আল-মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটে পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না বলে স্মারকলিপিতে জানানো হয়। আগের অভিযোগের সঙ্গে মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ মামলার সম্পর্ক এখনো স্পষ্ট নয়।
নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান। তাঁর বাবা আবদুল বাছির জানিয়েছেন, পরিবার সিতি আখতারকে চেনে না এবং তিনি নজরুলের স্ত্রী নন। অন্যদিকে, কয়েকটি প্রতিবেদনে সিতির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নাগর ছাওলি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারও মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য চেয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়নি। ১৮ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আদালতের রায়ের অনুলিপি ও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কনস্যুলারের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সময়, নির্দিষ্ট স্থান, গেট, নির্জন কক্ষ, ভিডিও এবং ‘শুধু চুম্বন’-এর মতো নানা দাবি ছড়ালেও এগুলোর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেনি। ফলে এসব বর্ণনাকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় ও ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনজীবীর সহায়তা, আগের অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের মামলার সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক মিশনকে আগে না জানানোর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

মরদেহ দেশে ফেরানোর বর্তমান অবস্থাও নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আদালতের নথি ও দুই পরিবারের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব।