জরিপে পিছিয়ে হোয়াটলি, শেষ মুহূর্তে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের গ্রিনভিল সমাবেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রচার, রিপাবলিকানদের ভোট টানার চেষ্টা। সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারে ট্রাম্প; ডেমোক্র্যাট রয় কুপারের সমালোচনা, প্রতিবাদকারীদের সমাবেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের গ্রিনভিলে ২০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিট-গ্রিনভিল বিমানবন্দরে আয়োজিত এ সমাবেশে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন তিনি।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এ প্রচারাভিযান কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ।

সমাবেশের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে সমর্থন দেওয়া। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের প্রথম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী লরি বাকহাউটের পক্ষেও প্রচার চালানো হয়। বাকহাউটের প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন ডেভিস।

হোয়াটলির প্রার্থিতা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, হোয়াটলিকে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। হোয়াটলি এর আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিনেট আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ট্রাম্পের করছাড় ও সরকারি ব্যয় কমানোর নীতিকে ঘিরে টিলিসের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ।

কুপারকে আক্রমণ, অপরাধ দমন নিয়ে বিতর্ক

সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপারের সমালোচনা করেন। কুপারের শাসনামল ও অপরাধ দমনসংক্রান্ত নীতিকে সামনে এনে তিনি রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে কুপারের বিরুদ্ধে অপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার অভিযোগের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই না করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সমাবেশের শুরুতে কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে নিরাপত্তাকর্মীরা সরিয়ে নেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ছয়জন প্রতিবাদকারীকে সমাবেশস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁদের ‘লুজার’ বলে আখ্যা দেন এবং বামপন্থীদের অর্থায়নের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সিনেট নির্বাচনে অর্থ ও জনসমর্থনের লড়াই

নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে হোয়াটলির প্রচারাভিযানে অর্থায়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ব্যয়কারী গোষ্ঠী হোয়াটলির পক্ষে বিজ্ঞাপনে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। বিপরীতে, কুপারের প্রচারশিবির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ সংরক্ষণ করেছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত একটি ডব্লিউআরএএল–ডব্লিউএসওসি জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কুপারের সমর্থন ছিল ৫৪ শতাংশ, আর হোয়াটলির সমর্থন ৪০ শতাংশ। প্রায় ৫ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জরিপে উঠে আসে। তবে জরিপের ফলাফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না।

ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য

ট্রাম্পের গ্রিনভিল সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। নির্বাচনী ভাষায় এ ধরনের উদ্যোগকে ‘গেট আউট দ্য ভোট’ বলা হয়। এর মাধ্যমে সমর্থকদের ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোটদান এবং নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।

আগাম ভোটের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনায় নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটারদের অংশগ্রহণ রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রচারসভা ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতার মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো দল দুটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সাল থেকে গ্রিনভিলে ট্রাম্পের এটি পঞ্চম সফর বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবারের সমাবেশে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী হোয়াটলি এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী বাকহাউট।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রিনভিলের সমাবেশ সেই বৃহত্তর নির্বাচনী প্রচেষ্টারই অংশ। তবে ট্রাম্পের প্রচার, প্রার্থীদের অর্থসংস্থান এবং ভোটার উপস্থিতির উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা ভোট গণনার পরই স্পষ্ট হবে।