জেএম সেন হল থেকে বেরিয়ে জনতার শুভেচ্ছা নিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে হেঁটে ফেরার পথে সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। এর আগে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন তিনি।

টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময় এ দৃশ্য দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী রহমতগঞ্জ হয়ে মোমিন রোডের দিকে যাওয়ার সময় তাকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছিলেন, কেউ ধারণ করছিলেন ভিডিও। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারেক রহমান। পরে রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সমান অধিকারের অঙ্গীকার

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষের দেশ। ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

রাজনৈতিক কারণে তাকে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, যে পরিচয়ই থাকুক না কেন, দেশের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে রাতে জেএম সেন হলে তার আগমন এবং অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনায় নগরজুড়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়।