সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড; মরদেহ দেশে আসা ও হানিমুনের বিষয়ে যা জানাল দুজনের পরিবার

মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি নজরুলের বাবার, সুইটির পরিবারও জানত না তাঁদের পরিচয়

টুইট ডেস্ক: সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির সত্যতা মেলেনি। তাঁদের মরদেহ দেশে আসা, দুজনের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় এবং হানিমুনের পরিবর্তে ওমরাহ করতে যাওয়ার বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।

নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে গিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে দেশটির কর্তৃপক্ষ গত ১৪ অক্টোবর তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন তিনি। সেখানে যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকে নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে আটকের কথা জানালেও কী কারণে আটক হয়েছেন, তা পরিবারকে বলেননি। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পান তাঁরা।

ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন আবদুল বাছির। তিনি বলেন, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন এবং সুইটি আক্তার সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা ছিল না।

অন্যদিকে, সুইটির বড় বোন বিউটি আক্তার জানান, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে ঋণ করে সুইটিকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কারাগারে যাওয়ার পরও সুইটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন এবং ভালো থাকার কথা জানাতেন। তবে কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছিল কিংবা তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানাননি।

বিউটি আক্তার আরও জানান, নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তাঁদের আগে কোনো ধারণা ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের দাবিও পরিবারগুলোর বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না।