সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চাইল ঢাকা

রায়ের কপি পাওয়ার পর মরদেহ ফিরিয়ে আনা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ; পরিবার ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

টুইট প্রতিবেদক: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিচারিক রায়ের অনুলিপি চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের পুলিশ ওই দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রায়ের অনুলিপি পাওয়া গেলে তাঁদের পরিচয়, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে জানান শামা ওবায়েদ। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সৌদির কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের তথ্য যাচাই
সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অনেক বাংলাদেশি কারাভোগ করছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এসব বন্দির তালিকা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের কাছে পাঠায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেই তালিকার তথ্যও যাচাই করে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রায়ের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা এবং তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে বিচারিক নথি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনাও করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে অল্প সময়ের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তবে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে বিচারিক রায়ের অনুলিপি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিই এখন বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।