মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ

কালীঘাটে আটক নারী, হামলার দাবি তৃণমূলের; পুলিশের ভাষ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
টুইট ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। তবে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দোলা সেনের অভিযোগ, তন্নিষ্ঠা সাহা নামের ওই নারী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হামলার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ওই নারী রাস্তায় শুয়ে পড়েন বলেও দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, আটক নারী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চুক্তিভিত্তিক নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক এবং নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগনি বলে পরিচয় দেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগও তুলেছেন দলটির নেতারা। জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এত কাছে ওই নারী কীভাবে পৌঁছালেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তৃণমূলের মুখপাত্র সাকেত গোখলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি প্রকাশ করে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ এক বিবৃতিতে আটক নারীর পরিচয় ৩৮ বছর বয়সী অনসূয়া সাহা বলে জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারীর মুখোমুখি হন। এরপর দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে আটক করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের বিবৃতিতে ছুরি উদ্ধার কিংবা ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ঘটনায় আটক নারীর পরিচয় নিয়েও তৃণমূলের বক্তব্য ও পুলিশের বিবৃতিতে অমিল রয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।






