নভেম্বরেই রূপপুর থেকে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

নভেম্বরের শেষেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য, প্রকল্পে রাশিয়ার ঋণ ১১.৯ বিলিয়ন ডলার।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটম।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সেই লিখাচেভ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকায় এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে এক বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এবং কেন্দ্রটির কার্যকর ও নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
লিখাচেভ বলেন, তাঁদের বিশেষজ্ঞরা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেই যুক্ত নন; বাংলাদেশের অপারেটরদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, যাতে কেন্দ্রটি কার্যকর ও নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায়। নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্প। ঢাকার প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের
উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রকল্পটিতে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। রাশিয়া এ প্রকল্পে ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় ঋণ দিচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় আনুমানিক ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক জ্বালানি এবং প্রকৌশলগত সহায়তাও সরবরাহ করছে রাশিয়া।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার কাজ শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সংযোগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ইউনিটটির পূর্ণ সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে সংযোগের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কারিগরি প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণের ওপর।
রূপপুরের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়বে।
বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সফল ও নিরাপদ পরিচালনা, নির্ধারিত সময়ে গ্রিডে সংযোগ এবং পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রকৃত অবদান নির্ধারণ করবে।






