৫০১ রানের ম্যাচে বোলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা গম্ভীরের

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৩ ছক্কা ও ৪৬ চারের বন্যা; ব্যাটারদের দাপটে ভারসাম্য হারাচ্ছে ক্রিকেট, বলছেন ভারতীয় কোচ।
টুইট প্রতিবেদক: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুই দল মিলে ৫০১ রান করেছে। ম্যাচটিতে ছক্কা হয়েছে ৩৩টি, আর চার এসেছে ৪৬টি। ব্যাটারদের এমন দাপটের বিপরীতে বোলারদের অসহায়ত্ব দেখে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অধিনায়ক শাই হোপের দুর্দান্ত শতক ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা। এর আগে সর্বোচ্চ ২৫৭ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ শেষে গম্ভীর বলেন, ক্রিকেটে ব্যাট ও বলের মধ্যে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা জরুরি। দর্শকেরা যেমন ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই দেখতে চান, তাঁরাও তেমন ক্রিকেটই চান।
ভারতীয় কোচের ভাষ্য, বোলাররা দলে জায়গা করে নিতে কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু খেলার পরিস্থিতি যদি ক্রমাগত ব্যাটারদের অনুকূলে চলে যায়, তাহলে বোলারদের ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁর মতে, দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য ফিরলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য ক্রিকেট ম্যাচ দেখা যাবে।
ব্যাটসম্যানদের দাপটে অসহায় বোলাররা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। প্রথম ওভারে দুটি উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। তবে হোপ ও রাদারফোর্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
হোপ ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রান করেন। তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে। অন্যদিকে রাদারফোর্ড মাত্র ৩৭ বলে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কায় করেন ৮৪ রান। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় আরও সহজ করে দেয়।
এমন ব্যাটিংয়ের সামনে ভারতের বোলাররা কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েন। এর আগে গুয়াহাটিতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় পেয়েছিল ভারত। পরপর এমন উচ্চ রান ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ঘটনা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
হার থেকে শিক্ষা নিতে চান গম্ভীর
পরাজয়কে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন গম্ভীর। তাঁর মতে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতকে প্রতিটি ম্যাচ থেকেই উন্নতির উপাদান খুঁজে নিতে হবে।
গম্ভীর স্বীকার করেন, ফ্ল্যাট উইকেট ও শিশিরের প্রভাব বোলারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে কার্যকর বোলিং করা যায়, সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে ভারতকে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখতে না পারাকে তিনি উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে দেখছেন।
একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের প্রশংসাও করেছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর মতে, শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড বিশ্বমানের ব্যাটার। তাঁদের কৃতিত্বও স্বীকার করতে হবে।
মায়াঙ্কের গতিতে মুগ্ধ কোচ
ম্যাচে ভারতের তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদবের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। দ্রুতগতির বোলিংয়ে পরপর দুই উইকেট নিয়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলেছিলেন।
গম্ভীরের মতে, একজন ফাস্ট বোলারের প্রধান শক্তি তাঁর গতি। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সামর্থ্য থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগানো উচিত। পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে, তবে একজন দ্রুতগতির বোলারের পরিচয় তাঁর আগ্রাসী বোলিংয়েই ফুটে ওঠে।
মায়াঙ্ক সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলেও মনে করেন ভারতীয় কোচ।
সব মিলিয়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি আবারও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে ব্যাটস ম্যানদের জন্য ক্রমেই অনুকূল হয়ে ওঠা এই সংস্করণে বোলারদের কার্যকর ভূমিকা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? গম্ভীরের বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে না পারলে ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বোলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে।






