সাহিবজাদার নেতৃত্বে পাকিস্তানের জয়

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন সাহিবজাদা ফারহান। তাঁর ব্যাটিং নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কার ১৮২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৭ বল হাতে রেখেই জয় পেল পাকিস্তান।

টুইট ডেস্ক: নতুন অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দারুণ সূচনা করল পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। ব্যাট হাতে ৫৩ বলে ৮৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন সাহিবজাদা।

এর আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল থেকে সালমান আগাকে সরিয়ে সাহিবজাদা ফারহানকে অধিনায়ক করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। শুরুতেই নাসিম শাহের বোলিং তোপে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর লাহিরু উদারা ও কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা।

দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উদারা ও কামিন্দু। তাঁদের জুটিতে আসে ৬০ রান। কামিন্দু ২৩ রান করে বিদায় নিলেও দলের রানের গতি ধরে রাখেন উদারা। পরে দাসুন শানাকার সঙ্গে তাঁর ৫৭ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। শানাকা করেন ১৫ বলে ১৮ রান।

শ্রীলঙ্কার হয়ে লাহিরু উদারার ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ রান। পাকিস্তানের হয়ে নাসিম শাহ তিনটি এবং মোহাম্মদ ইমরান দুটি উইকেট নেন।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে পাকিস্তান। ফখর জামান ১৩ বলে ২১ রান করে ফিরে গেলেও দলের রানের গতি কমতে দেননি সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত।

দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার ৯২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের জয়ের ভিত শক্ত করেন। মাত্র ৩৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাহিবজাদা। অন্যদিকে ২৮ বলে অর্ধশতক তুলে নেন মাজ। তবে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরের বলেই আউট হয়ে যান তিনি।

দ্রুত রান তুলতে থাকা সাহিবজাদা শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান প্রয়োজন, তখন সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। তাঁর ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি পাকিস্তানের জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দেয়।

শেষ দিকে খাজা নাফাই ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। ১৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তুলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা।

অধিনায়কত্বের শুরুতেই সাহিবজাদার এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য বড় প্রাপ্তি। ব্যক্তিগত ইনিংসের পাশাপাশি চাপের মুহূর্তে দলের রান তোলার দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। নতুন নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দলে পাকিস্তানের এই জয় তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।