ইসলামী বইমেলায় ওলামা অ্যালায়েন্সের প্রকাশনা উন্মোচন

আলেমদের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ; রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার না হয়ে নিজস্ব নীতি ও শক্তিতে দাঁড়ানোর আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর।

টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘তুরাস-এর উত্তরাধিকার’ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর (রহ.) স্মরণে প্রকাশিত সংখ্যাটিতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আলেমদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা সংরক্ষণ, তাঁদের অবদান নিয়ে গবেষণা এবং সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের সম্পাদক মাওলানা ত্বহা মাহমুদ এবং সহসম্পাদক মাওলানা শারাফাত শরীফ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আশরাফ মাহদি বলেন, ‘তুরাস-এর উত্তরাধিকার’ সংখ্যায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী আলেমদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, আপসহীন ভূমিকার কারণে আল্লামা শাহ আহমাদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ও ইসলাম রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলনে আলেমদের ভূমিকা থাকলেও ইতিহাসে তাঁদের অবদান যথাযথভাবে উঠে আসেনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে তাঁদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার না হওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আলেম-ওলামাদের কারও রাজনৈতিক খেলার গুটি না হয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট নীতি ও শক্তির ওপর দাঁড়ানো উচিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের যথাযথ ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে তিনি সাড়ে চার ঘণ্টা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন। করোনাকালে সাড়ে চার হাজার লাশ নিজ হাতে দাফন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এত অবদানের পরও আলেমদের মূলধারার বাইরে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন এই ধর্মীয় নেতা।

বিগত সরকারের আমলে আলেমদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে আলেমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমূল্যায়ন ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের বক্তব্য সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক মানের নথি তৈরি করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইতিহাস সংরক্ষণে গবেষণার গুরুত্ব

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক প্রকাশনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল একটি প্রকাশনা উন্মোচনের আয়োজন নয়; বরং ইতিহাস সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইনজিমামুল ইসলাম এবং মুখপাত্র মাওলানা রফিকুল ইসলাম আইনী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী, বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম, লেখক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আয়োজকদের মতে, আলেমদের অবদান ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে এ ধরনের প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব ইতিহাসের গ্রহণযোগ্যতা ও গবেষণামূল্য নিশ্চিত করতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই, নির্ভরযোগ্য দলিল সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি।