হলিউডের ৭ তারকার ব্যক্তিজীবনে নগ্ন দৃশ্যের প্রভাব

পর্দার নগ্ন দৃশ্য, ব্যক্তিজীবনে যে প্রভাব পড়েছিল ৭ তারকার পরিবারের অস্বস্তি থেকে প্রেমের সম্পর্কে জটিলতা,পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তাঁরা।
টুইট ডেস্ক পর্দায় অন্তরঙ্গ বা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় অনেক সময় অভিনয়জীবনের অংশ হলেও এর প্রভাব সব সময় পর্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের সদস্যদের অস্বস্তি, প্রেমের সম্পর্কে জটিলতা কিংবা ভবিষ্যৎ সন্তানদের প্রশ্ন—এমন নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন হলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা।
সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার অনুষ্ঠান ‘প্রিটি টাফ’-এ অভিনেত্রী এমি রসম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তবে রসম একা নন; আরও কয়েকজন তারকা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে তাঁদের ব্যক্তিজীবনেও নানা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জোডি কোমার
‘দ্য হোয়াইট প্রিন্সেস’ ধারাবাহিকে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন জোডি কোমার। এসব দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা অস্বস্তি বোধ করতেন বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলাও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কোমারের মতে, চিত্রনাট্যে এমন দৃশ্য থাকলে একজন অভিনেতার সামনে অনেক সময় খুব বেশি বিকল্প থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অস্বস্তি কিছুটা কমেছে।
লিনা ডানাম‘গার্লস’ ধারাবাহিকে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন লিনা ডানাম। তাঁর বাবা শিল্পী হওয়ায় মেয়েকে পর্দায় নগ্ন অবস্থায় দেখায় তাঁর বিশেষ অস্বস্তি ছিল না।
তবে ডানামের মা লরি সিমন্সের জন্য বিষয়টি সহজ ছিল না। মেয়েকে এমন দৃশ্যে দেখতে একজন মা হিসেবে অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে পরে জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও ধারাবাহিকটির অন্যান্য বিষয় তিনি পছন্দ করতেন।
কিট হ্যারিংটন
‘গেম অব থ্রোনস’-এর জন স্নো চরিত্রের জন্য পরিচিত কিট হ্যারিংটন ‘ইন্ডাস্ট্রি’ ধারাবাহিকে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছেন।
সহশিল্পী পিটার ডিংকলেজের সঙ্গে এক আলোচনায় হ্যারিংটন রসিকতা করে বলেন, যত বেশি এমন দৃশ্যে অভিনয় করছেন, ততই তাঁর মনে হচ্ছে এবার হয়তো থামা উচিত। কারণ তিনি এখন বাবা। তাঁর আশঙ্কা, সন্তানরা বড় হয়ে একদিন তাঁকে প্রশ্ন করতে পারে—পর্দায় তাঁকে কেন এতবার নগ্ন দেখা যায়।
মার্গো রবি
২০১৩ সালের ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ ছবিতে মার্গো রবি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন। তবে ছবিটি পরিবারের সদস্যরা কীভাবে নেবেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই চিন্তিত ছিলেন তিনি।
শুরুতে বিষয়টি পরিবারের কাছ থেকে গোপন করেছিলেন রবি। পরে সত্যি স্বীকার করলেও রসিকতা করে জানিয়েছিলেন, দৃশ্যগুলোতে তাঁর বদলে অন্য অভিনেত্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর মুখ যুক্ত করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে একধরনের সমঝোতায় পৌঁছান তিনি। সিনেমাটি দেখতে চাইলে আগে বইটি পড়ে নিতে হবে,এমন শর্ত দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এমি রসম
‘শেমলেস’ ধারাবাহিকে ফিওনা গ্যালাগারের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান এমি রসম। ধারাবাহিকটির অন্তরঙ্গ দৃশ্য তাঁর প্রেমের জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন তিনি।
রসমের ভাষ্য, যাঁদের সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পর্দায় দেখা চরিত্রের সঙ্গে তাঁর বাস্তব ব্যক্তিত্বকে মিলিয়ে ফেলতেন। এমনকি এক ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং রসমের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সমস্যা তৈরি করবে কি না, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন।
অভিনেত্রীর কাছে বিষয়টি ছিল অদ্ভুত। তাঁর প্রশ্ন ছিল পর্দায় অভিনয় করা কোনো চরিত্র বা দৃশ্য কীভাবে একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা যায়?
হান্টার শ্যাফার
‘ইউফোরিয়া’ তারকা হান্টার শ্যাফারের ক্ষেত্রেও পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তি ছিল। তাঁর মা-বাবা দুজনই যাজক। ধারাবাহিকটির প্রথম পর্বে তাঁর চরিত্রের প্রাপ্তবয়স্ক ও সহিংস দৃশ্য ছিল।
শ্যাফারের দুশ্চিন্তা শুধু মা-বাবাকে ঘিরে ছিল না। তাঁর মা-বাবার গির্জার মানুষজনও একদিন তাঁকে টেলিভিশনে ওই চরিত্রে দেখতে পারেন,এ বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।
মা-বাবার গির্জার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উদার হলেও বিষয়টি তাঁদের জন্য সহজ ছিল না বলে জানিয়েছিলেন শ্যাফার। নিজের অভিনয়ের কারণে মা-বাবাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এ জন্য তাঁর খারাপও লাগত।
পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য একজন অভিনয়শিল্পীর পেশাগত সিদ্ধান্ত হলেও এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, এর প্রভাব কখনো কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনেও পৌঁছে যায়। পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক পরিবেশ এবং অভিনয়শিল্পীর নিজের মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে একই ধরনের দৃশ্যের প্রভাবও ভিন্ন হতে পারে।






