প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের

রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনীতি, বিশ্বশান্তি ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরায় বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
টুইট ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণ নিয়ে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তাঁদের বক্তব্যে ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রোহিঙ্গা সংকট, বিশ্বশান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের কাঠামো হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ‘থ্রি-আর’ কৌশল—পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন—গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এবারের ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়ন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি, সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার সময়ে ভাষণটি বিশ্বশান্তির জন্য বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটিয়েছে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, শিশু স্বাস্থ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ও তুলে ধরেছেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলায় দেওয়া ১৭ মিনিটের ভাষণে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শক্তিশালী বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত সমস্যা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরেছেন। সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক ব্যয় উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহারের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের কয়েকজনও প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ভাষণ দেওয়া এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।






