বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে বাড়ছে, ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হবে ফার্নেস অয়েলে

টুইট ডেস্ক: শিল্পের গ্যাস সংকট কাটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে শিল্প, সিএনজি ও আবাসিক খাতে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে দেশের শত শত শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পে সংকট আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। বিপরীতে শিল্প, আবাসিক, সিএনজি ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ বাড়িয়ে ১৩৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। সার খাতে দেওয়া হচ্ছে ১৭ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে দেশে ৫৩টির বেশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও রোববার দুপুরে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ মেগাওয়াট। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন ৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২৬ আগস্টের জন্য নির্ধারিত একটি এলএনজি কার্গোরও সরবরাহকারী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় এবং ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় ঢাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে সহনীয় এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং রাখা হবে। এরপর জেলা শহর এবং সর্বশেষে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।