বান্দরবানে তিন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা শিক্ষা কোর্স উদ্বোধন

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিই জাতীয় সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। বান্দরবানে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে বান্দরবানে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সটির উদ্বোধন করেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের সংস্কৃতি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামকে নয়, আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকেই বৈচিত্র্যময় করেছে।”
তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য শুধু নয়, এখানের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যই পার্বত্য চট্টগ্রাম সুন্দর।”
রিজিয়ন কমান্ডার আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা শিক্ষা কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষার সঙ্গে পরিচিত করা এবং মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।
উদ্বোধন করা কোর্সে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা—এই তিনটি ভাষা শেখানো হবে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে কোর্সটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতি ভাষায় ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী প্রতি বছর এ ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় কোর্সটি পরিচালিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যের চর্চা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষা শেখার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হলে নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাসিং মারমাসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ভাষা শিক্ষা কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ বিতরণ করেন।







