বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য-ইউরোপ

প্রায় ৩০ বছর পর এমন নাটকীয় গ্রহণ; কোথাও ৯৫ শতাংশ ঢাকা পড়ল সূর্য, কোথাও দেখা গেল পূর্ণগ্রহণ
টুইট ডেস্ক: প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল। বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে ইউরোপের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে জড়ো হন হাজারো মানুষ। অনেকের কাছে এটি ছিল জীবনে একবার দেখা যায়-এমন এক অভিজ্ঞতা।
যুক্তরাজ্য থেকে গ্রহণটি আংশিকভাবে দেখা যায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যায়। কর্নওয়ালে সূর্যের সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে।
অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। কয়েক মিনিটের জন্য চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলায় সেখানে দিনের আলো অনেকটা কমে গিয়ে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে।
আকাশের দিকে হাজারো মানুষের চোখ
সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানে বড় ধরনের জনসমাগম হয়। পরিষ্কার আকাশ থাকা এলাকাগুলোতে মানুষ ধীরে ধীরে সূর্যের ওপর চাঁদের ছায়া পড়তে দেখেন। অনেকেই বিস্ময় ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
উত্তর স্কটল্যান্ডে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে। মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশির ভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গ্রহণের দৃশ্য উপভোগ করেন মানুষ।
তবে উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় মেঘের কারণে দৃশ্যটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। তবু গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কোথাও পূর্ণগ্রহণ, স্থায়ী ছিল দুই মিনিটেরও কম
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে। এরপর তা আর্কটিক মহাসাগর পেরিয়ে আইসল্যান্ডে পৌঁছে যুক্তরাজ্যের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায়।
স্পেনের কিছু এলাকায় স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এ সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় চলে আসে। চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলায় চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে এবং সূর্যের বাইরের উত্তপ্ত গ্যাসের স্তর ‘করোনা’ দৃশ্যমান হয়।
পূর্ণগ্রহণের সময় সূর্যের পেছন থেকে গোলাপি রঙের ছোট ছোট গ্যাসীয় বলয়ও দেখা যেতে পারে, যেগুলোকে বলা হয় ‘প্রমিনেন্স’। পূর্ণগ্রহণের এই পর্যায় দুই মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়।
নিরাপদে গ্রহণ দেখার তাগিদ
সূর্যগ্রহণ দেখতে বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন দর্শনার্থীরা। গ্রহণের আগে এসব চশমার চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে বিভিন্ন দোকানে সংকট দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই অনুমোদিত নিরাপদ চশমা বা নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করেই গ্রহণ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণগ্রহণ কবে
১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্য থেকে দেখা এটিই ছিল সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। তবে দেশটি থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে আরও কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে।
২০২৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়া আংশিক গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ২০৮১ সালে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়ার মতো বিরল দৃশ্য দেখা যাবে। আর যুক্তরাজ্য থেকে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে প্রায় ১৮ মাস পরপর কোথাও না কোথাও দেখা গেলেও নির্দিষ্ট একটি স্থান থেকে এমন দৃশ্য অত্যন্ত বিরল। তাই এবারের গ্রহণও ইউরোপের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক মহাজাগতিক আয়োজন।






