জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে কড়াকড়ি, নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ, আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা
টুইট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বিদেশিদের ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটির ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমার মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তির ধারাবাহিকতায় এ সাংবিধানিক বিধান কার্যকর করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক দম্পতি শুধু সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছেন। প্রশাসনের ভাষায়, এ প্রবণতা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত।
প্রেসিডেন্টের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, “জন্মগত নাগরিকত্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার হয়েছে। এটি বন্ধ করা প্রয়োজন।”
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের এ উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে একই ধরনের উদ্যোগ নিলে দুটি ফেডারেল আদালত তা স্থগিত করেছিলেন। আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সাংবিধানিক অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সীমিত করার চেষ্টা আদালতে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।






