ডিজিএফআই ও পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

এক বাড়িতে দুই দফা গিয়ে টাকা দাবি, স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তরা নিজেদের কখনো পুলিশ, কখনো ডিবি, আবার কখনো ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ ও ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে মো. সোহেল রানার বাড়িতে যান। এ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা আবারও একই বাড়িতে গিয়ে নিজেদের পুলিশ ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে আরও টাকা দাবি করেন। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দুইজনকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার কাছ থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তিদের একজন হাসিবুল হাসান (২৬)। তার বাড়ি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথলিয়া লোকমানপুর এলাকায়। অপরজন সোহেল রানা (২৮), একই উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় চালক। স্থানীয়দের দাবি, হাসিবুল নিজেকে ডিজিএফআই ও পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার পরিচয় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হয়েছে। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিরাজুল হক বলেন, আটক দুই ব্যক্তি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।