গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান

নতুন আইনের খসড়ায় ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষের প্রস্তাব

টুইট ডেস্ক: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করবে।

খসড়া আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা না গেলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না মিললে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুম সনদ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারও সংরক্ষণ করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হবে।