জ্বালানি, এআই ও শ্রমবাজারে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ-রাশিয়া

রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার। জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শ্রমবাজার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর; রূপপুরে অর্থায়ন অব্যাহত রাখছে মস্কো।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শ্রমবাজারে নতুন গতি পেয়েছে। গত ২২ জুলাই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, জাতিসংঘে সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এর আগে জুন মাসে মস্কো সফরে গিয়ে তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসআটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ-এর সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্পে রাশিয়া আন্তঃসরকারি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় এআই কৌশল প্রণয়ন এবং গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তুলতে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে রাশিয়া।
শ্রমবাজারেও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী বছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ার বৃত্তি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বিকল্প আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও সামুদ্রিক পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি হয়। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে গম, সার, জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি ও শিল্পপণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।
এছাড়া সূর্যমুখী তেল, মসুর, ছোলা, মটরসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া।






