দুর্গম পাহাড়ে চাঁদের গাড়ি দিল সেনাবাহিনী

দুর্গম পাহাড়ে প্রত্যাবর্তনকৃত পরিবারকে ২টি চাঁদের গাড়ি প্রদান। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জীবনমান উন্নয়ন, ১২ গ্রামের ৩০০’র বেশি পরিবার উপকৃত হবে।

বান্দরবান প্রতিনিধি: দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যাবর্তনকৃত পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে বান্দরবান রিজিয়নের পক্ষ থেকে দুটি চাঁদের গাড়ি প্রদান করা হয়েছে, যা এলাকার ১২টি গ্রামের ৩০০’র বেশি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে থানচি-রুমা সীমান্তবর্তী কুংহ্লা-কাইথন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব গাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ১২টি পাহাড়ি গ্রামের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি তুলে দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ২০২০ সালে কুকি-চিন সন্ত্রাসী তৎপরতার সময় প্রাণ বাঁচাতে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেওয়া বম, ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বহু পরিবার পরে নিজ ভিটায় ফিরে আসে। তবে প্রত্যাবর্তনের পর এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও পরিবহন সংকটে ভুগছিল। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রদান করা দুটি চাঁদের গাড়ি স্থানীয়দের জন্য বহুমুখী সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও ফলমূল বাজারজাতকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে এসব গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দুর্গম অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি আসবে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীর এই সহায়তা শুধু একটি যানবাহন প্রদান নয়; বরং এটি প্রত্যাবর্তনকৃত পরিবারগুলোর জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার একটি শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রিজিয়ন কমান্ডার প্রাতা বম পাড়া এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয়দের জন্য পরিচালিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম (পিএসি), বলীপাড়া ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, রিজিয়নের জি-৩ ক্যাপ্টেন সামিউল ইসলাম, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, মেজর আসিফ জুবায়ের, পার্বত্য বম কাউন্সিল সোসাইটির সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য লালজার বমসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ে রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো কিংবা জুমের ফসল বাজারে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি ছিল। নতুন এই দুটি গাড়ি সেই কষ্ট অনেকাংশে লাঘব করবে এবং পাহাড়ি জনপদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।