প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ কোটি রুপি জরিমানার প্রস্তাব ভারতে

মোদি মন্ত্রিসভায় আজই অনুমোদনের সম্ভাবনা, দ্রুত বিচার করবে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত
টুইট ডেস্ক: ভারতে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনার পর পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এ সংশোধন আনার প্রস্তাব শুক্রবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংশোধনী অনুমোদিত হলে আগামী সোমবার লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব আদালতকে **তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন করে রায় দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
বর্তমানে ভারতে প্রচলিত আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁসের তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক কোটি রুপি জরিমানার বিধান বহাল থাকছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম এক কোটি রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে ভারতে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো ক্ষেত্রেই দোষীদের কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া ঠেকাতে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।






