চোখের সংক্রমণে কয়েক দিনের মধ্যেই হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি

কেরাটাইটিসসহ মারাত্মক সংক্রমণে কয়েক দিনেই দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা।
টুইট প্রতিবেদক: চোখে হালকা ব্যথা, লালচে ভাব বা ঝাপসা দেখা—এ ধরনের উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কিছু ধরনের চোখের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে কয়েক দিনের মধ্যেই মারাত্মক দৃষ্টিহানি এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বও ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্নিয়ার সংক্রমণ বা কেরাটাইটিস সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চোখের রোগগুলোর একটি। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা এককোষী জীবাণুর কারণে হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে কর্নিয়ায় স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকান্থামিবা কেরাটাইটিস একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক সংক্রমণ, যা সাধারণত দূষিত পানি বা অপরিচ্ছন্নভাবে ব্যবহৃত সংস্পর্শ লেন্সের মাধ্যমে চোখে প্রবেশ করে। এতে তীব্র ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, অতিরিক্ত পানি পড়া এবং ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসা বিলম্বিত হলে স্থায়ী দৃষ্টিহানির আশঙ্কা থাকে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সংস্পর্শ লেন্স ব্যবহারকারী, লেন্স পরে গোসল বা সাঁতার কাটেন যারা, চোখে আঘাত পেয়েছেন এমন ব্যক্তি, ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় চোখের ওষুধ ব্যবহারকারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ ছাড়া ছত্রাকজনিত চোখের সংক্রমণও অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসা দেরি হলে অস্ত্রোপচার বা কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চোখে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ ঝাপসা দেখা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, আলোতে অস্বস্তি, চোখ দিয়ে পানি বা পুঁজ পড়া কিংবা চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সংস্পর্শ লেন্স ব্যবহারের আগে ও পরে হাত পরিষ্কার রাখা, লেন্স পরে সাঁতার বা গোসল না করা, দূষিত পানি থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে সক্ষম। তাই চোখের সংক্রমণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
সূত্র: স্বাস্থ্যবিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতামত






