নতুন ওষুধে রজোনিবৃত্তিকালীন অস্বস্তি কমার আশা

হরমোন ছাড়াই গরম অনুভূতি, মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফলের ইঙ্গিত।

টু্ইট প্রতিবেদক: রজোনিবৃত্তিকালীন নারীদের জন্য হরমোনবিহীন নতুন ধরনের একটি ওষুধ গরম অনুভূতি (হট ফ্ল্যাশ), রাতের অতিরিক্ত ঘাম, মানসিক অবসাদ এবং উদ্বেগ কমাতে কার্যকর হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, বাস্তব জীবনের রোগীদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় ওষুধটি ব্যবহারের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে।

গবেষণায় আলোচনায় থাকা ওষুধটির নাম ফেজোলিনেট্যান্ট। এটি হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্নায়বিক সংকেতকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব নারী হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা নিতে পারেন না বা নিতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।

চলমান অপশন-ভিএমএস গবেষণার অংশ হিসেবে ৪০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ৬৫৬ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ওষুধটি ব্যবহারের প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে গরম অনুভূতির সংখ্যা ও তীব্রতা কমে আসে।

একই সঙ্গে হালকা মাত্রার উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গও স্বাভাবিক অবস্থার দিকে যেতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রজোনিবৃত্তিকালে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কোনো না কোনো মাত্রায় গরম অনুভূতি ও রাতের ঘামের সমস্যায় ভোগেন। এর প্রভাব ঘুম, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে হরমোনভিত্তিক চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও, সবার জন্য সেটি উপযোগী নয়।

ফলে হরমোনবিহীন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ রোগীর শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য ওষুধের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়।

কিছু ক্ষেত্রে যকৃতের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণেরও প্রয়োজন হতে পারে।স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, রজোনিবৃত্তিকালীন নারীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।