হৃদ্রোগের শঙ্কায় আতঙ্কিত ছিলেন কার্লি পিয়ার্স

বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগও জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকার
টুইট প্রতিবেদক: মার্কিন কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী কার্লি পিয়ার্স জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে গিয়ে তিনি একপর্যায়ে মনে করেছিলেন, যেকোনো সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। নিজের ভাষায়, তখন তার মনে বারবার একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খেত ‘আমার হৃদ্যন্ত্র ঠিক আছে তো?’
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী এই শিল্পী জানান, তার শরীরে ‘পুনরাবৃত্ত পেরিকার্ডাইটিস’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগজনিত সমস্যা ধরা পড়ে। এ রোগে হৃদ্যন্ত্রকে ঘিরে থাকা আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার ফলে তীব্র বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কার্লি পিয়ার্স বলেন, তিনি এমন বুকে ব্যথা অনুভব করতেন যা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকলে কিছুটা কমে যেত, কিন্তু পেছনে হেলান দিলেই তা বেড়ে যেত। পাশাপাশি শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হতো যেন সরু নলের ভেতর দিয়ে বাতাস টানতে হচ্ছে। এসব উপসর্গ তাকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফেলেছিল।
গায়িকার দাবি, শুরুতে তার শারীরিক সমস্যাকে অনেক চিকিৎসক গুরুত্ব দেননি। তবে তিনি হাল ছাড়েননি এবং বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তিনি মনে করেন, নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের কাছ থেকে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া জরুরি।
কার্লি পিয়ার্স আরও জানান, ২০২০ সাল থেকে তিনি একাধিকবার এই রোগের তীব্র উপসর্গের মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে ভালো থাকলেও ব্যস্ত পেশাজীবনের সঙ্গে স্বাস্থ্যগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেন এই শিল্পী। সে সময়ও তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কনসার্টের সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনলেও ভক্তদের জন্য গান গাওয়া চালিয়ে যেতে চান।
স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা দিয়ে কার্লি পিয়ার্সের আহ্বান, বয়স বা পেশা যাই হোক না কেন, শরীরের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।






