ব্যায়ামের আগে কী খাবেন? তিন পুষ্টিবিদের পরামর্শ

ব্যায়ামের ধরনভেদে সঠিক খাবার বেছে নিলে বাড়ে শক্তি, কমে ক্লান্তি এবং দ্রুত হয় শারীরিক পুনরুদ্ধার।

টুইট প্রতিবেদক: সুস্থ জীবনযাপনে নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই হয় না, ব্যায়ামের আগে কী খাওয়া উচিত সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে উপযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়, কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং ব্যায়াম-পরবর্তী অবসাদও কম হয়।

সম্প্রতি তিনজন পুষ্টিবিদের পরামর্শভিত্তিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ধরনের ব্যায়ামের জন্য একই ধরনের খাবার উপযোগী নয়। ব্যায়ামের সময়, তীব্রতা ও ধরন অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা উচিত।

হালকা ব্যায়ামের আগে

হাঁটা, যোগব্যায়াম কিংবা হালকা শরীরচর্চার আগে খুব ভারী খাবারের প্রয়োজন হয় না। একটি কলা, একটি আপেল, সামান্য দই অথবা অল্প পরিমাণ বাদাম শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে পারে। এতে পেটও ভারী লাগে না।

দীর্ঘ সময়ের সহনশীলতা নির্ভর ব্যায়াম

দৌড়, সাইকেল চালানো বা দীর্ঘ সময়ের ক্রীড়া অনুশীলনের আগে শর্করাযুক্ত খাবার বেশি উপকারী। ওটস, লাল আটার রুটি, ফল কিংবা সামান্য মধু মিশ্রিত দই শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং দ্রুত ক্লান্তি আসতে দেয় না।

ভারোত্তোলন ও পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম

যারা ভারোত্তোলন বা শক্তিনির্ভর ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য শর্করা ও আমিষের সমন্বয় জরুরি। সিদ্ধ ডিম, দই, ফলের সঙ্গে বাদাম বা সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার ব্যায়ামের আগে ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং ব্যায়াম শেষে পুনরুদ্ধারও সহজ হয়।

কখন খাবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, বড় ধরনের খাবার ব্যায়ামের অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত। আর হালকা নাশতা হলে ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো হজমে সময় নেয় এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পানও জরুরি

খাবারের পাশাপাশি শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে এবং কর্মক্ষমতা উন্নত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক মানুষের শারীরিক অবস্থা ও খাদ্য সহনশীলতা ভিন্ন। তাই নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়ামের পূর্ববর্তী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।