অতিরিক্ত মদ্যপানে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অন্ত্র, যকৃত ও পেশি

নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য, বিপাকক্রিয়াও পড়তে পারে মারাত্মক চাপে।
টুইট ডেস্ক: অতিরিক্ত মদ্যপান শুধু যকৃতের ক্ষতিই করে না, বরং একই সঙ্গে অন্ত্র, পেশি এবং শরীরের বিপাকক্রিয়ার ওপরও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে শরীরের একাধিক অঙ্গ ও জৈবিক প্রক্রিয়া পরস্পর সম্পর্কিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরবর্তীতে জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে প্রথমে অন্ত্রের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অন্ত্রের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ও বিষাক্ত উপাদান রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে।
এই অবস্থাকে সাধারণভাবে ‘লিকি গাট’ বা অন্ত্রের ফুটো হয়ে যাওয়া সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এর ফলে সারা শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা যকৃতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্ত্র ও যকৃতের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ জৈবিক সম্পর্ক রয়েছে, যাকে ‘গাট-লিভার অক্ষ’ বলা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপান এই ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে এবং যকৃতে প্রদাহ ও আঁশযুক্ত ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি যকৃত বিকল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে শরীরের পেশিগুলোও ক্ষয় হতে শুরু করে। পেশির স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় শারীরিক শক্তি কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা এবং অন্যান্য বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই মনে করেন কেবল নিয়মিত মদ্যপানই ক্ষতিকর। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপান বা ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’-ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি মাসে একবার অতিরিক্ত মদ্যপানও যকৃতের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যকৃত, অন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ার সুস্থতা বজায় রাখতে অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে অতিরিক্ত মদ্যপানের ক্ষতি শুধু একটি অঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে।






