কোলন ক্যানসার রোধে ‘স্বর্ণমান’ পরীক্ষা কোলনোস্কোপি, যা জানা জরুরি

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে কার্যকর হলেও রয়েছে কিছু জটিলতার সম্ভাবনা

টুইট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কোলন ও মলাশয় ক্যানসার শনাক্তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পরীক্ষা হলো কোলনোস্কোপি। চিকিৎসকদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে বৃহদান্ত্রের সম্পূর্ণ অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং ক্যানসারে রূপ নেওয়ার আগেই সন্দেহজনক পলিপ অপসারণ সম্ভব হয়। ফলে এটি শুধু রোগ শনাক্তই নয়, ক্যানসার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মল-ভিত্তিক পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষাসহ নতুন কিছু বিকল্প পদ্ধতি যুক্ত হলেও কোলনোস্কোপিকে এখনো “স্বর্ণমান” বা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলে শেষ পর্যন্ত কোলনোস্কোপিই করতে হয়।

কোলনোস্কোপি কী?

কোলনোস্কোপি হলো এমন একটি চিকিৎসা পরীক্ষা, যেখানে একটি নমনীয় ক্যামেরাযুক্ত নল মলদ্বার দিয়ে প্রবেশ করিয়ে বৃহদান্ত্র ও মলাশয়ের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় চিকিৎসক প্রয়োজন হলে টিস্যু নমুনা সংগ্রহ কিংবা পলিপ অপসারণও করতে পারেন।

প্রধান উপকারিতা

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, কোলনোস্কোপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো:

কোলন ও মলাশয়ের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়।

ক্যানসারে রূপ নিতে পারে এমন পলিপ তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা সম্ভব।

রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা ওজন কমে যাওয়ার কারণ নির্ণয়ে সহায়তা করে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ফলে কোলন ক্যানসারের অনেক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার সফলতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

কারা করাবেন?

বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, গড় ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলন ক্যানসার স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক ইতিহাস, পূর্বে পলিপ থাকার ইতিহাস বা প্রদাহজনিত অন্ত্ররোগ থাকলে আরও আগে এবং ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি

যদিও কোলনোস্কোপি সাধারণত নিরাপদ, তবুও কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। এর মধ্যে রয়েছে;

অন্ত্রে রক্তপাত

অন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত বা ছিদ্র হওয়ার বিরল ঝুঁকি

অবেদনজনিত জটিলতা

সংক্রমণের সম্ভাবনা

পরীক্ষার প্রস্তুতিজনিত অস্বস্তি ও পানিশূন্যতা ।

তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য, এসব জটিলতা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরীক্ষার উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি।

বিকল্প পরীক্ষাও বাড়ছে

সম্প্রতি কোলন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে ঘরে বসে করা যায় এমন মল-ভিত্তিক পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষাও যুক্ত হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষার সংবেদনশীলতা কোলনোস্কোপির তুলনায় কম। কোনো বিকল্প পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল এলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোলনোস্কোপি করতেই হয়।

উপসংহার

কোলন ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যানসার হলেও সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, কোলনোস্কোপি এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এবং উপযুক্ত বয়সে নিয়মিত স্ক্রিনিং জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।