খানজাহান আলী দিঘি থেকে কুমির অপসারণ

মাজার দিঘির ভয়াবহ হামলার পর প্রশাসনের অভিযান, ৬০০ কেজির মাদী কুমির উদ্ধার।

টুইট প্রতিবেদক: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী দিঘি থেকে অবশেষে সেই আলোচিত কুমিরটি অপসারণ করেছে বন বিভাগ। কয়েকদিন আগে এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনার পর উত্তেজনা ও আতঙ্কের মধ্যে বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনায় নেওয়া হয়।

তিন দিন পর সফল উদ্ধার অভিযান

বুধবার সকাল থেকেই বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ দল দিঘি এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে এটিকে আটক করা হয়। প্রায় বেলা ১২টার দিকে কুমিরটিকে বেঁধে ফেলা সম্ভব হয়।

এরপর সেটিকে নিরাপদে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

৬০০ কেজির মাদী কুমির

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কুমিরটি প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের একটি পূর্ণবয়স্ক মাদী কুমির। এটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর উত্তেজনা

ঘটনার কয়েক দিন আগে একই কুমিরের আক্রমণে একটি শিশুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি বৈঠক করে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয়দের স্বস্তি

কুমির অপসারণের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দিঘি এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দিঘিতে নামতে ভয় পেতেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, কুমিরটি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, এখন সেটি সরিয়ে নেওয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

প্রশাসনের বক্তব্য

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

অন্যদিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার দলের সদস্যরা জানান, কুমিরটি বর্তমানে নিরাপদ পরিবেশে পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।