রাজশাহীতে ৫ টাকায় লাউ, লোকসানে কৃষক

দুর্গাপুরে উৎপাদনের রেকর্ড, কিন্তু ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: ঈদুল আজহার পর রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় লাউয়ের বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের মোড় ও গ্রামীণ বাজারে মাত্র ৫ টাকা পিস দরে লাউ বিক্রি হচ্ছে।
একই লাউ দেশের বিভিন্ন শহরে পৌঁছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঈদের আগে প্রতি পিস লাউ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই দাম নেমে এসেছে ৫ টাকায়। বর্তমান দরে বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলাসহ রাজশাহী জেলায় রেকর্ড পরিমাণ লাউ উৎপাদন হয়েছে। এবার জেলায় ৬৬৬ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে, যেখানে গত বছর ছিল ৫২১ হেক্টর। জেলার মধ্যে দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লাউ উৎপাদিত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাঠজুড়ে লাউয়ের মাচা। কৃষকেরা রাস্তার পাশে ও জমিতে লাউ বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে লাউ কিনে ট্রাকে করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের ইমরান আলী জানান, গ্রামের বাড়ির সামনে ৫ টাকা পিস দরে লাউ বিক্রি হতে দেখেছেন। পরে নরসিংদীতে গিয়ে একই লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখেন। তার মতে, কৃষক ও ভোক্তার মাঝখানে দামের এই বিশাল ব্যবধান উদ্বেগজনক।
ঢাকার মহাখালীতে বসবাসকারী দুর্গাপুরের নওপাড়া গ্রামের কামরুল হাসান বলেন, এলাকায় ৫ টাকা দরের লাউ ঢাকায় এসে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকরা উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদের ছুটিতে পরিবহন সংকট ও বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুর সদর মোড়ে লাউ কিনতে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম বলেন, চালক ও সহকারীদের অনেকেই ছুটিতে থাকায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে কৃষক পর্যায়ে দাম কম হলেও ব্যবসায়ীদের লাভ খুব বেশি হচ্ছে না।
লাউচাষি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ১৫ কাঠা জমিতে তার লাউয়ের আবাদ রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি পিস ৩২ টাকা দরে বিক্রি করলেও বর্তমানে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক সময় গ্রাম ও শহরের বাজারে সবজির দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আলু ও পেঁয়াজ উত্তোলনের পর এ অঞ্চলের কৃষকেরা ব্যাপকভাবে লাউ চাষে ঝুঁকেছেন। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।






