গরুব্যবসায়ীকে ঘিরে আতঙ্ক, প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মিলল নিরাপত্তা

ডাকাতের ধাওয়া, চাঁদাবাজির অভিযোগ ও হয়রানির আশঙ্কার মধ্যে পুলিশের সহায়তায় ঢাকার পথে ব্যবসায়ী।
টুইট প্রতিবেদক: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী গরুবাহী পরিবহনে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে গরু কিনে ঢাকায় ফেরার পথে এক ব্যবসায়ী ডাকাতচক্রের ধাওয়া, চাঁদাবাজির চেষ্টা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ–এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশি নিরাপত্তায় ওই ব্যবসায়ীকে গন্তব্যের পথে এগিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হেলাল আহমেদ রাজধানীর ডেমরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ২৪টি গরু কিনে দুটি পিকআপ ও একটি ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে থাকা ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের গাড়ির পিছু নেয়। একপর্যায়ে তারা গরুবাহী ট্রাক থামানোর চেষ্টা করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক মনে হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সরাসরি পঞ্চগড় সদর থানার সামনে গিয়ে আশ্রয় নেন।
থানায় পৌঁছানোর পরও হয়রানি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ করেন হেলাল আহমেদ। তার দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র গরুগুলো নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। এমনকি গরু চুরির অপবাদ দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে ব্যবসায়ীর স্বজনরা প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম–কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে পুলিশ গরু কেনাবেচার কাগজপত্র যাচাই করে এবং বিক্রেতাদের বক্তব্য নেয়। কোনো অসঙ্গতি না পাওয়ায় ব্যবসায়ীকে গরুসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পর্যন্ত গরুবাহী গাড়িগুলোকে এগিয়ে দেওয়া হয়।
হেলাল আহমেদ বলেন, “আমরা বিপদ বুঝতে পেরে থানায় আশ্রয় নিই। পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের পর পুলিশ সহযোগিতা করেছে। এতে বড় ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের হাত থেকেও রেহাই পেয়েছি।”
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হয়। বৈধ কাগজপত্র পাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার তৎপর রয়েছে।
কেউ চাঁদাবাজি বা হয়রানির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।






