ফাঁকা চেক নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

রাজশাহীতে নারী উদ্যোক্তার সংবাদ সম্মেলন, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ
টুইট ডেস্ক: রাজশাহীতে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা।
শনিবার (৯ মে) নগরীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উদ্যোক্তা মোছাঃ মাফরোজা বেগম। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছে।
লিখিত বক্তব্যে মাফরোজা বেগম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকার মাসুদ রানার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বড় অঙ্কের ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন মাসুদ রানা। সেই আশ্বাসে ২০২৪ সালের ৫ মে কয়েকটি ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কোনো ঋণের ব্যবস্থা না করে ওই চেক ও স্ট্যাম্প অপব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৮ জুলাই মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস বার্তার মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
মাফরোজা বেগমের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে মাসুদ রানা তার রাজশাহী সেনানিবাস মার্কেটস্থ “আর্মি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর”-এ প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ৬ মে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাসুদ রানা ও তার সহযোগীরা সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক হিসাব অনুসারে মাসুদ রানা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার দাবি করতে পারেন। অথচ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় চেক জালিয়াতি ও মানহানির অভিযোগে একাধিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাফরোজা বেগম। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাসুদ রানার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।






