নারীর উন্নয়নেই অগ্রাধিকার: মাধবী মার্মা

পাহাড়ি নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি

টুইট ডেস্ক : শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ এলাকায় ফিরে তিন পার্বত্য জেলার নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, পাহাড়ের নারীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে রয়েছেন।

মাধবী মার্মা বলেন, “পাহাড়ের নারীরা পরিশ্রমী হয়েও পিছিয়ে। কুটির শিল্প, জুম চাষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নারীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নারী শিক্ষা বিস্তার এবং মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও তার কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “নারী শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। সুস্থ মা ছাড়া উন্নত পাহাড় গড়ে তোলা সম্ভব নয়,”—বলেন তিনি।

সংসদ সদস্যের এ বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তার অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা দীর্ঘদিন ধরে কুটির শিল্প, জুম চাষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কাঠামোগত সহায়তার অভাবে তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। ফলে কার্যকর প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে স্থানীয়দের মতে, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। কারণ দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক উদ্যোগ ও কার্যকর তদারকি।

মাধবী মার্মা বলেন, “আপনাদের আস্থার প্রতিদান কাজ দিয়ে দেব। পাহাড়ের শান্তি ও উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে সেতুবন্ধন হয়ে কাজ করতে চাই।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাহাড়ি নারীদের উন্নয়ন নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেলে পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।