ঈদযাত্রায় টিকিট যুদ্ধ শুরু

অগ্রিম বাস টিকিট বিক্রিতে চাপ বেড়েছে, ছুটির প্রথম দফার আসন প্রায় শেষ।

টুইট প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই কাউন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শুরুর আগের দুই দিনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত যাত্রার জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ফলে ৮ মে থেকেই যাত্রীরা বিভিন্ন রুটের বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার সরকারি ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় অনেকেই আগেভাগে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে ২৪ মে রাত, ২৫ মে সারাদিন এবং ২৬ মে সকালের বাসের টিকিটে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের মহাব্যবস্থাপক জীবন চক্রবর্তী বলেন, সকাল থেকেই অনলাইন ও কাউন্টার—দুই মাধ্যমেই টিকিট বিক্রি চলছে। তবে ছুটির শুরুর সময়ের অধিকাংশ আসন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০টার মধ্যেই জনপ্রিয় কয়েকটি রুটের বড় অংশের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া আদায়ের আশঙ্কা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনলাইন ও কাউন্টার,উভয় ক্ষেত্রেই একই ভাড়া কার্যকর থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি কাউন্টারে বিআরটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই পরিবহন খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। তবে এবার টানা সরকারি ছুটি থাকায় যাত্রীচাপ আরও আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে যাত্রীদের দ্রুত টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।