মা-বাবার বিরুদ্ধেই মামলা, এখন রাজনীতির শীর্ষে বিজয়

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক-নাটকীয় যাত্রায় তামিলনাড়ুতে নতুন শক্তি
টুইট ডেস্ক: একসময় রাজনীতিতে আসতে চাপ দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। সেই তিনিই এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
‘থালাপাতি’ নামে পরিচিত এই তারকা দীর্ঘদিন ধরেই তামিল চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। সেই জনপ্রিয়তাকেই রাজনৈতিক মূলধনে পরিণত করে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, “২৩৪টি আসনেই বিজয়ই প্রার্থী”—যা তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কৌশলেরই প্রতিফলন।
তবে তার রাজনৈতিক পথচলার শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর তাকে রাজনীতিতে আনতে উদ্যোগ নেন। কিন্তু সে সময় এতে আপত্তি জানিয়ে বিজয় নিজেই আইনি ব্যবস্থা নেন। ২০২০ সালে তার অনুমতি ছাড়া ভক্ত সংগঠনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টাও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ায়। পরে ২০২১ সালে তিনি নিজেকে সেই সংগঠন থেকে সরিয়ে নেন।
অবশেষে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন বিজয়। এর আগে থেকেই তার ভক্ত সংগঠন অল ইন্ডিয়া থালাপতি বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছিল, যা পরে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়।
তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম-এই দুই প্রধান শক্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিজয়ের উত্থানকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এম কে স্টালিন ও এডাপাডি কে. পালানিস্বামী-এর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে নতুন জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা, সুসংগঠিত ভক্ত নেটওয়ার্ক এবং সঠিক সময় নির্বাচন-এই তিনটি উপাদানই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। যদিও অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়েছে, তবুও নির্বাচনের ফলাফল বলছে-তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন এই তারকা রাজনীতিক।






