নায়ক থেকে নেতা: বিজয়ের ঝড়ো উত্থান

লনাড়ুর রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিভিকে, বদলাচ্ছে পুরনো সমীকরণ।

টুইট ডেস্ক: দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এক তারকা থেকে পূর্ণকালীন রাজনীতিক এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন থালাপতি বিজয়। দীর্ঘদিনের ভক্তভিত্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি এখন ক্ষমতার কেন্দ্রের দোরগোড়ায়।

দলীয় কাঠামো গড়ে তুলে ইতোমধ্যেই তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তাঁর দল ‘টিভিকে’। এতে তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী দ্বিমুখী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

প্রথম থেকেই পরিকল্পিত পথচলা

২০০৯ সালে ‘বিজয় মাক্কাল লায়াক্কাম’ গঠনের মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রমের আড়ালে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি শুরু করেন থালাপতি বিজয়। ত্রাণ, শিক্ষা সহায়তা এবং স্থানীয় সমস্যায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটি গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে-যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক পুঁজিতে পরিণত হয়।

২০১১ সালে নির্বাচনে প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। এতে তারকার জনপ্রিয়তা ভোটে রূপ নিতে পারে কি না-সেই পরীক্ষার সূচনা হয়।

সিনেমা থেকে সরাসরি রাজনীতির বার্তা

২০১০-এর পর থেকে বিভিন্ন জনসমাগমে বক্তব্যের ধরনে পরিবর্তন আনেন থালাপতি বিজয়। বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিক্ষা সংকট-এসব ইস্যুতে সরব হয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে সমালোচনা তাঁর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।

ভোটের মাঠে বাস্তব পরীক্ষা

২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁর সংগঠনের প্রার্থীদের সাফল্য ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট। এতে প্রমাণ হয়, ভক্তভিত্তি শুধু জনসমাগম নয়-নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ গঠন করে পূর্ণমাত্রায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন থালাপতি বিজয়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন—দল এককভাবে নির্বাচন করবে এবং প্রচলিত জোট রাজনীতির বাইরে থাকবে।

চলচ্চিত্র ছাড়ার ঘোষণা: শক্ত বার্তা

রাজনীতিতে প্রবেশের পরই প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দেন তিনি। প্রায় ৭০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

দুই বছরে শক্তিশালী সংগঠন

মাত্র দুই বছরের মধ্যে জেলা থেকে বুথ পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন বিস্তার করে ‘টিভিকে’। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান-এই চারটি মূল বার্তাকে সামনে রেখে দলটি নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।

তবে পথচলায় চ্যালেঞ্জও ছিল। ২০২৫ সালে দলীয় এক অনুষ্ঠানে পদদলনের ঘটনায় সংগঠন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও সংযত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেন থালাপতি বিজয়।

ক্ষমতার সমীকরণে কেন্দ্রীয় চরিত্র?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে যদি ‘টিভিকে’ উল্লেখযোগ্য আসন পায়, তবে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বিজয়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতিহাসের প্রতিধ্বনি ও নতুন বাস্তবতা

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তাঁর উত্থান অনেকটা এম জি রামাচন্দ্রন–এর সময়কার পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে পার্থক্য হলো-এমজিআর কল্যাণনীতির ঢেউয়ে উঠে এসেছিলেন, আর বিজয়ের উত্থান নতুন প্রজন্মের সংকট ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে।

সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে। ফল যাই হোক, থালাপতি বিজয়–এর এই যাত্রা ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক রাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।