জলাবদ্ধতা নয়, ‘জলজট’—সংসদে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টিতে সীমিত সময়ের পানি জমা, পুরনো ছবি দিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা নয়, বরং স্বল্পস্থায়ী ‘জলজট’ সৃষ্টি হয়েছিল,জাতীয় সংসদে এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জলাবদ্ধতার খবর “ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক” এবং ২০২৪ সালের পুরনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৮ এপ্রিলের অতিবৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি স্থানে অস্থায়ীভাবে পানি জমেছিল, তবে তা জলাবদ্ধতা নয়। তার ভাষ্য, “প্রবর্তনা মোড়সহ মোট পাঁচটি স্থানে জলজট হয়েছিল, যা তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে নিষ্কাশন করা হয়।”

এর আগে এ ঘটনায় সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নগরবাসী ইতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং এটিকে “বড় মনের পরিচয়” হিসেবে দেখছে।

সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট খালগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নকাজ চলাকালে কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হয়েছিল, যা অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজটের কারণ হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নগরীর মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। যেসব খালের কাজে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো পাঁচ দিনের মধ্যে অপসারণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুম থেকে চট্টগ্রামে আর জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকবে না।”