শ্রমিক সুরক্ষায় ১৪ দফা সুপারিশ

সরকার ও মালিকপক্ষের সমন্বয়ে টেকসই শিল্পায়নের আহ্বান, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি।

টুইট প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে সামনে রেখে দেশের শ্রমিক শ্রেণির অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ও শিল্প মালিকদের প্রতি ১৪ দফা সুপারিশ দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

সংগঠনটি বলেছে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা কখনোই পূর্ণতা পাবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, আর শিল্প বাঁচলে দেশ এগোবে” এই বাস্তবতা সামনে রেখেই এখন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সময়।

সরকারের প্রতি দেওয়া সাতটি সুপারিশে শ্রম আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার জোরদার, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রম আদালতের সংস্কার, গৃহকর্মী ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং নারী শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতি সুপারিশে শ্রমিককে ব্যয় নয়, বরং সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি সম্মান, নারী শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন বলেন, দেশের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করারও দাবি জানান।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না শ্রমিক অধিকার প্রশ্নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির সমালোচনা করে বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি শ্রমিকবান্ধব নীতির বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানান।

সভায় বক্তারা সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, সংঘাত নয়,আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।

শ্রমিকের ঘাম যেন শোষণের প্রতীক না হয়ে সম্মানের প্রতীক হয়,এমন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হতে পারে।