১৫ দপ্তরে নতুন নেতৃত্ব

প্রশাসনে একযোগে রদবদল, নীতিনির্ধারণে গতি আনার ইঙ্গিত।

টুইট ডেস্ক: সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে একযোগে ১৫টি অধিদপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বসানো হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের ঘোষণা আসে, যা প্রশাসনের কার্যকারিতা ও সেবাদানের গতি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ১৫ জন কর্মকর্তাকে প্রেষণে বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক ও সমমানের পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. লুৎফর রহমানকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

একই ধারাবাহিকতায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের এম এম আরিফ পাশা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক এই পুনর্বিন্যাসে স্বাস্থ্য ও সেবাখাতেও পরিবর্তন এসেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

একইসঙ্গে পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ এবং গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটেও নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষেও চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী স্তরেও নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে এত সংখ্যক শীর্ষ পদে রদবদল সরকারের নীতি বাস্তবায়নে গতি আনার পাশাপাশি জবাবদিহিতা বাড়ানোর একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে কর্মকর্তাদের ন্যস্ত করে ইতোমধ্যে আদেশ কার্যকর করা হয়েছে, ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর প্রভাব মাঠ প্রশাসনে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।