যুদ্ধবিরতি নিয়েও উত্তেজনা থামেনি

পরস্পরকে দায়ী করছে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনী; সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের শঙ্কা।
টুইট প্রতিবেদক: লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
বরং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী,উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, লেবানন থেকে ছোড়া একাধিক প্রক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, তাদের বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করা তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের ‘হিজবুল্লাহ যোদ্ধা’ বলে দাবি করছে তারা।
আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে একাধিকবার রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরাইলই প্রথমে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায়।
এর জবাব হিসেবেই তারা উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এটি ছিল ‘প্রতিক্রিয়ামূলক প্রতিরোধ’, কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের টাইর এলাকায় ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে কাজ করবে যাতে দেশটি হিজবুল্লাহর প্রভাব থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও বক্তব্য প্রমাণ করছে যে যুদ্ধবিরতি কার্যত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন লেবানন-ইসরাইল সীমান্তের দিকে, যেখানে শান্তির চেয়ে অনিশ্চয়তাই যেন ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে।ল হয়ে উঠছে।






