বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির নামে অস্থিরতা বরদাশত নয়, জ্বালানি সংকটেও ঐক্যের বার্তা

টুইট ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, রাজনৈতিক বিভাজন বা অস্থিরতার ক্ষেত্র নয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থিতিশীল ও সহনশীল রাজনীতির পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল কিন্তু স্থিতিশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষাঙ্গনকে সংঘাতমুক্ত রাখা জরুরি। তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করবে, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জায়গা সেখানে হওয়া উচিত নয়।

শিক্ষাঙ্গন নিয়ে এমন অবস্থানের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়লেও সরকার তা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা দেখাচ্ছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জ্বালানি মূল্যের সমন্বয় আন্তর্জাতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে এবং তা প্রতিবেশী ও পশ্চিমা বহু দেশের তুলনায় সীমিত। কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোকেও সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনায় সরকার একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দুইটি বার্তা স্পষ্ট-একদিকে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ঐক্যের আহ্বান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণবিরোধী অবস্থান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে সরকারের এই অবস্থান কতটা বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।