বিএনপি সংস্কারে ব্যর্থ হলে সংকটের শঙ্কা

বিএনপির সামনে অর্থনীতি, সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা: আইসিজি

টুইট ডেস্ক: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ফের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে-এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। সংগঠনটি বলছে, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইসিজির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী অধ্যায়ের অবসান হলেও নতুন সরকারের স্থিতিশীলতা এখনো পরীক্ষার মুখে। জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফের উসকে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে জনঅসন্তোষ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আইসিজি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। জুলাই সনদ ঘিরে মতপার্থক্যকে তারা সম্ভাব্য উত্তপ্ত রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংস্কার উপেক্ষিত হলে তা বিরোধীদের আন্দোলনের বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

সংস্থাটি বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া মামলা প্রত্যাহার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকেও নতুন সরকারের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আইসিজির পর্যবেক্ষণ মূলত নতুন সরকারের জন্য এক ধরনের নীতিগত সতর্কবার্তা। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাজনৈতিক বৈধতা ধরে রাখতে শুধু ক্ষমতায় আসা যথেষ্ট নয়; কাঠামোগত সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই হবে মূল পরীক্ষা।

প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও সরকারের সামনে জটিল রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনীতিকে সংঘাতে নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখতে পারাই আগামী সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।