ট্রাম্পের অভিযোগে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন

ইরানি জাহাজে ‘চীনা উপহার’ দাবিকে বেইজিংয়ের কঠোর প্রত্যাখ্যান; সম্ভাব্য সফর ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

টুইট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ইরানের একটি আটক মালবাহী জাহাজে চীনের পক্ষ থেকে ‘উপহার’ ছিল বলে ট্রাম্পের দাবি দুই পরাশক্তির সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

বেইজিংয়ের দাবি, তারা একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনোভাবেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় না। এর আগেও একই অভিযোগকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছিল চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে চীনের অবস্থান এই বিরোধকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বেইজিং নিজেকে নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। বিশেষ করে ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও চীন বরাবরই যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এর প্রভাব পড়তে পারে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের ওপর। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই সফরের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান উত্তেজনা তা অনিশ্চিত করে তুলেছে।

একই দিনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক পদক্ষেপও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে ইউরোপের সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও।