২০ মাস পর কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলন, পরিচয় বিভ্রাটে

মধুপুরে ভুল পরিচয়ে দাফনের ঘটনা; জীবিত ফিরে আসায় খুলে যায় রহস্য, প্রকৃত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর।
টুইট ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভুল পরিচয়ে দাফন করা একটি লাশ ২০ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের বিভ্রান্তি কাটিয়ে অবশেষে নিহত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় আদালতের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে লাশটি প্রকৃত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মেজবাহুল ইসলাম (৩০), তিনি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই। সেদিন ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশ থেকে গলাকাটা একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে মধুপুর পৌর এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা হয়রত আলী লাশটিকে তার ছেলে রিদয় বলে দাবি করে গ্রহণ করেন এবং স্থানীয়ভাবে দাফন সম্পন্ন করেন।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় মাত্র এক সপ্তাহ পর। ৭ আগস্ট নিখোঁজ রিদয় জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি। পরে লাশের ছবি দেখে গাইবান্ধার হাফিজুর রহমান সেটিকে তার নিখোঁজ ছেলে মেজবাহুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করেন।
এরপর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে আদালত লাশ উত্তোলন করে প্রকৃত স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে অবশেষে দীর্ঘ ২০ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন এবং টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শফিউল আলম।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অজ্ঞাত লাশ শনাক্তে আরও সতর্কতা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তিকর ঘটনা এড়ানো যায়।






