দুই যুগ পর জিয়া বাড়িতে তারেক রহমান, আবেগে ভাসলেন স্বজনরা

বগুড়ার গাবতলীতে পৈতৃক বাড়িতে ফিরে স্মৃতিচারণ ও পারিবারিক মুহূর্ত।

টুইট ডেস্ক: দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান তাঁর পৈতৃক বাড়ি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে গিয়েছেন। সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান। দীর্ঘদিন পর তাঁকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন ও স্থানীয়রা।

ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

জিয়া পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পরিবারের অনেক সদস্য তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেলফি তোলেন। পরিবেশটি ছিল আবেগঘন ও পারিবারিক স্মৃতিতে ভরা।

পৈতৃক বাড়ি ঘুরে দেখেন তারেক রহমান

পরে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে তিনি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পিতার স্মৃতিবিজড়িত ঘর পরিদর্শন করেন। প্রায় ১০ মিনিট তিনি বাড়ির বারান্দায় অবস্থান করেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন।

আবেগঘন বক্তব্য

এ সময় তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের জন্মভূমি ও গ্রামবাসীর সঙ্গে একত্রিত হতে পারা তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতার বিষয়।

জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষিত ঘর

বাড়িটির ভেতরে এখনো সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত কিছু আসবাব সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে খাট, ড্রেসিং টেবিল ও সোফাসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র রয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক সামগ্রী আগেই চট্টগ্রাম জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

গ্রামবাসীর আবেগ

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সন্তানকে ফিরে পেয়ে তারা গর্বিত ও আবেগতাড়িত। বাগবাড়ি বাজারের এক চা বিক্রেতা বলেন, বহু বছর পর গ্রামের ছেলে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে-এটি তাদের জন্য আনন্দের মুহূর্ত।

ঐতিহাসিক পটভূমি

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের পূর্বপুরুষরা ১৮৯৫ সালে বাগবাড়ীতে একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে ‘জিয়া বাড়ি’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বাড়িটি দোতলায় উন্নীত করা হয়।

দীর্ঘদিন পর এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।