চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকট: পাম্পে লম্বা লাইন, তেল পেতে হট্টগোল সরবরাহ

সরবরাহ কমে রেশনিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায়ও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।

টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীতে, যেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

অধিকাংশ পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল না থাকায় খোলা থাকা অল্প কিছু পাম্পে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি, কোথাও যা এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ক্ষেত্রে তেল পাচ্ছেন না। এতে করে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ৩৮৩টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও সরবরাহ সংকটে অধিকাংশ পাম্প কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

নগরের কাতালগঞ্জ, নতুন পাড়া, বালুছড়া, অক্সিজেন ও বড়দিঘীর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পাম্প দিনভর বন্ধ দেখা গেছে।

এমনকি পুলিশ লাইন্স, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়ের পাম্পগুলোতেও তেল সংকট তীব্র আকার নিয়েছে।

খুলশী এলাকার এক পাম্প ব্যবস্থাপক জানান, গত এক মাস ধরে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ প্রায় বন্ধ।

কেবল সীমিত পরিসরে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, সেটিও রেশনিং পদ্ধতিতে। ফলে প্রতিটি যানবাহনকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, যেসব পাম্পে কিছুটা সরবরাহ রয়েছে, সেখানে ভিন্ন চিত্র। গণি বেকারি এলাকার একটি পাম্পে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। চালকদের অভিযোগ,শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষ ভরসা হিসেবে এখানে এসে দাঁড়াতে হচ্ছে।

পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সময়মতো পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের প্রবণতা,দুইয়ের মিলিত প্রভাবে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রাম-এর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।