সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

 

স্যাটেলাইট চিত্র ও যাচাইকৃত ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ও ধ্বংস অভিযানে শত শত ভবন নিশ্চিহ্ন; আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

টুইট ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী একাধিক শহর ও গ্রাম ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র ও যাচাইকৃত ভিডিও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের যাচাই সংস্থা জানায়, ২ মার্চের পর থেকে অন্তত এক হাজার চারশোর বেশি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে,যা শুধুমাত্র দৃশ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত একটি প্রাথমিক হিসাব।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমান্ত অঞ্চলের বহু জনপদ এখন আর আগের মতো চেনা যায় না।

বিস্ফোরণ ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একসঙ্গে একাধিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য একাধিক ভিডিওতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষ করে টাইবে নামের একটি শহরে একযোগে বিস্ফোরণে বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খিয়াম, কৌশা, দেইর সিরিয়ান, মার্কাবা ও আইতা আল-শাবসহ একাধিক গ্রামে সমন্বিত ধ্বংস অভিযান চালানো হয়েছে।

শুধুমাত্র আইতা আল-শাবে চারশোর বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিছু এলাকায় সাঁজোয়া যান ও খননযন্ত্রের উপস্থিতিও শনাক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের লেবাননভিত্তিক শান্তিরক্ষা মিশনের সদর দপ্তরের কাছাকাছি নাকোরা শহরেও বিস্ফোরণে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থাপনা এখন আর টিকে নেই।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিধি মেনে অভিযান পরিচালনা করছে এবং শুধুমাত্র সামরিক প্রয়োজনীয়তা থাকলেই স্থাপনা ধ্বংস করা হয়।

তবে বাহিনীটি অভিযোগ করেছে, হিজবুল্লাহ বেসামরিক এলাকায় সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো গ্রাম বা শহর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ সামরিক প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং তা যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়তে পারে।

তাদের মতে, প্রতিটি স্থাপনার ক্ষেত্রে আলাদা করে সামরিক প্রয়োজন যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ধারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।

সংঘাতের কারণে লেবাননে ইতোমধ্যে বারো লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উত্তরাঞ্চল বা প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তে “নিরাপত্তা অঞ্চল” গঠনের নামে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটির জনবিন্যাস ও স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।